স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ছাত্রজনতা। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয়ের সামনে থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রজনতা স্লোগান দিতে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওনা দেন। শুরু থেকেই কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে ছাত্রজনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে পৌঁছালে সেখানে পুলিশের ব্যারিকেডে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও ছাত্রজনতা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান। কিছু সময় পর হাইকোর্ট মাজারের সামনে পৌঁছালে বেলা ১টা ২৩ মিনিটে আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। দ্বিতীয় ব্যারিকেডও ভেঙে কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন আন্দোলনকারীরা।
পরবর্তীতে বেলা ১টা ২৭ মিনিটে শিক্ষা ভবনসংলগ্ন সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার সড়কে তৃতীয় দফায় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন ছাত্রজনতা। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বেলা ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রতিনিধিদলটি দাবি আদায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে।
এর আগে রোববার ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এই কর্মসূচির ডাক দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছাত্রজনতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আজ সোমবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ছাত্রনেতারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর