ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ২


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় কমপক্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল একটি গাড়ি, যা আল-জুমাইজিমাহ এলাকায় অবস্থান করছিল। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে লক্ষ্য করে। তবে নিহতদের পরিচয় বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

হামলা চলাকালীন সময় ইসরায়েলি ড্রোন দক্ষিণের ওদাইসেহ শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি বোমা ফেলেছে। এছাড়া আইতারুন এলাকার আশপাশে কয়েকটি দাহ্য গোলাবারুদও নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলো আহতদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তারপরও ইসরায়েল লিতানি নদীর দক্ষিণে কিছু এলাকায় সেনা অবস্থান বজায় রেখেছে এবং নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের লেবানন শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউনিফিল) জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১০ হাজার লঙ্ঘন করেছে। এসব লঙ্ঘনের ফলে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা বেড়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লঙ্ঘনের কারণে কমপক্ষে ৩৪০ জন নিহত এবং ৯৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

এই হামলার ফলে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার অভাবে আতঙ্কিত এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরায়েলের এই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। হিজবুল্লাহ এই ধরনের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের অবস্থান কঠোর রেখেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার মধ্যে স্থানীয় বসতিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আরও বড় ধরণের সহিংসতা দেখা দিতে পারে। লেবাননের জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাদের জীবন বিপর্যস্ত করছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর