জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। তবে দুপুরের পর থেকে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভোট দেওয়া শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর থেকেই আঙুলের কালি ও ছাপ যাচাই করে ভোট দেওয়া শিক্ষার্থীদের বের করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেখা গেছে, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক দলও নিরাপত্তা তদারকিতে কার্যত অবদান রাখছে। শহিদ সাজিদ ভবন, ইংরেজি ভবন এবং দর্শন ভবনের সামনে ভোট দেওয়া শিক্ষার্থীদের আঙুল যাচাই করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক জানান, প্রথমবারের মতো জবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দুপুরের পর থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আঙুলের ছাপ যাচাই করে ভোট দেওয়া শিক্ষার্থীদের বের করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, সবাই সহযোগিতা করবেন।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩৯টি কেন্দ্র এবং ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ চলবে। বিকাল ৩টার পর আর কাউকে ভোট দিতে দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং ১ নাম্বার গেটের সামনে দুটি পুলিশের বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচন চলাকালে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের প্রবেশ রোধ করা এবং ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ক্যাম্পাসে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।