স্থানীয় সূত্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে দুই দিন আগে অপহরণ করা হলেও দেশটির পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে তাঁর ডেপুটি দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা) প্রাসাদের ওপর দিয়ে অজ্ঞাত ড্রোন উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রাসাদ থেকে পাঁচ ব্লক দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুলির শব্দ প্রায় এক মিনিট ধরে চলেছে। তিনি বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল আকাশে কোনো উড়োজাহাজ আছে কি না, তা দেখি। কিন্তু সেখানে কোনো উড়োজাহাজ ছিল না। আমি আকাশে শুধু দুটি লাল আলো দেখেছি। সবাই জানালা থেকে তাকিয়ে পরিস্থিতি দেখছিল।”
প্রাসাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিক্রিয়া সামরিক ও পুলিশি বাহিনীর দ্রুততায় দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে আকাশে ট্রেসার বুলেটের মতো কিছু ছোড়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রাসাদের দিকে ছুটে যাচ্ছেন।
গত শনিবার মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে কারাকাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাড়তি সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। অপহরণের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অনুপস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এএফপির অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ড প্রাসাদ ও আশেপাশের এলাকায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, গুলির তীব্রতা শনিবারের মার্কিন হামলার মতো ছিল না। তবে ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদুরোর অনুপস্থিতি ও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সামরিক, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় প্রাসাদ ও আশেপাশের এলাকায় অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার ওপর নিবিড় মনোযোগ দিচ্ছে।