ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে প্রভাবশালী ১০ পরিবার ও তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিশাল সম্পদ গড়ে তুলেছে। তাদের প্রভাব শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বৈশ্বিক বাজার, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবণতাও তাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

বংশপরম্পরায় পাওয়া পুরোনো ধনসম্পদ ও নতুন ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই পরিবারগুলো দেখিয়েছে কীভাবে ধন, ক্ষমতা ও প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিস্তৃত হয়। ২০২৫ সালে ব্লুমবার্গ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০ পরিবারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় থাকা পরিবারের তথ্য নিম্নরূপ।

১. ওয়ালটন পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের মালিক ওয়ালটন পরিবারের সম্পদ ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। তারা ওয়ালমার্টের প্রায় ৪৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা বিরল। বিশ্বে এই কোম্পানির আওতায় ১০ হাজার ৭৫০টির বেশি সুপারস্টোর পরিচালিত হয়।

পরিবারের আয়ের বড় অংশ আসে ওয়ালমার্টের বিপুল বিক্রয় থেকে। গত অর্থবছরে কোম্পানির আয় ৬৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবারটি কোম্পানি পরিচালনা ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২. আল-নাহিয়ান পরিবার

আবুধাবিভিত্তিক আল-নাহিয়ান পরিবারের সম্পদ ৩৩ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার। তারা বহু বছর ধরে এই বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে। পরিবারটি আবুধাবির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর গভীর প্রভাব রাখে।

তেল খাতের পাশাপাশি তারা আবাসন শিল্প, ব্যাংকিং এবং বহুজাতিক কোম্পানিতেও নিয়ন্ত্রণ রাখে। আল-নাহিয়ান পরিবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গভীরভাবে যুক্ত।

৩. আল-সৌদ পরিবার

সৌদি আরবের আল-সৌদ পরিবারের সম্পদ প্রায় ২১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। আয়ের বড় অংশ আসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সৌদি আরামকো তেল ভান্ডার থেকে।

বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মতো প্রভাবশালী সদস্যরা পরিবারের মূল সম্পদের মালিক। তারা সরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে অবকাঠামো, পর্যটন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে।

৪. আল-থানি পরিবার

কাতারের শাসক আল-থানি পরিবারের সম্পদ প্রায় ১৯ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার। পরিবারের ধনসম্পদের মূল উৎস বিংশ শতাব্দীর অফশোর গ্যাস সম্পদ।

এছাড়া তারা হোটেল ও বিমা প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তিভিত্তিক ব্যবসায়িক খাত থেকেও আয় করে। পরিবারটি কাতারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিদেশে তাদের অনেক সম্পদের মধ্যে রয়েছে লন্ডনের হাররডস এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভ্যালেন্তিনো।

৫. এরমেস পরিবার

ফ্রান্সভিত্তিক এরমেস পরিবার ছয় প্রজন্ম ধরে বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান এরমেস পরিচালনা করছে। তাদের সম্পদ ১৮ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার।

বিরকিন এবং কেলি ব্যাগের জন্য তারা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এরমেস কোম্পানির মূল অংশের মালিকানা থেকে তারা সম্পদ অর্জন করেছে এবং সীমিত পরিমাণ পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে উচ্চ মূল্য বজায় রেখেছে।

৬. কোচ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোচ পরিবারের সদস্যরা তাদের বাবার তেল পরিশোধনাগারকে ১৫ হাজার ৫০ কোটি ডলারের ব্যবসায় রূপান্তর করেছে। এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি।

পরিবারের ব্যবসা বৈচিত্র্যময়, রাসায়নিক, সার, কাগজজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। কৌশলগত বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রভাবের মাধ্যমে তারা গুরুত্ব ধরে রেখেছে।

৭. মার্স পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মার্স ইনকরপোরেটেড মালিক মার্স পরিবারের সম্পদ ১৪ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। এম অ্যান্ড এম, মিল্কি ওয়েঃ, স্নিকার্স এর মতো চকলেট ব্র্যান্ডের জন্য কোম্পানিটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

পরিবারটি পোষা প্রাণীর যত্ন ও সুরক্ষা বিষয়ক ব্যবসাও পরিচালনা করে। ২০২৫ সালে তারা কেলানোভা নামে একটি স্ন্যাকস প্রস্তুতকারী কোম্পানি কিনেছে। ব্যবসার বৈচিত্র্য বজায় রেখে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

৮. আম্বানি পরিবার

ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে আম্বানি পরিবার। সম্পদ ১০ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। মুকেশ আম্বানি মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ টেক্সটাইল খাত থেকে শুরু করে তেল শোধন, টেলিকম, খুচরা বিক্রি ও ভোগ্যপণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত।

পরবর্তী প্রজন্ম ইশা, আকাশ ও অনন্ত ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে। পরিবারটি ব্যবসায় বৈচিত্র্য ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

৯. ওয়ের্ত-হাই-মার পরিবার

ফ্রান্সভিত্তিক ওয়ের্ত-হাই-মার পরিবারের সম্পদ ৮ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। তারা বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস শ্যানেল পরিচালনা করছে। দুই ভাই বর্তমানে ব্যবসা সামলাচ্ছেন।

শ্যানেলের ক্লাসিক পণ্য যেমন ‘লিটল ব্ল্যাক ড্রেস’ ও ‘নাম্বার ফাইভ’ পারফিউম থেকে তারা এখনও আয় করে।

১০. থমসন পরিবার

কানাডাভিত্তিক থমসন পরিবারের সম্পদ ৮ হাজার ২১০ কোটি ডলার। তারা উডব্রিজ হোল্ডিং কোম্পানির মাধ্যমে থমসন রয়টার্স এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

পরিবারের সদস্য ডেভিড থমসন তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে কোম্পানি পরিচালনা করছেন। পরিবার সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও আধুনিক বিনিয়োগ কৌশল একত্রিত করে ব্যবসা পরিচালনা করছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর