ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়া সীমান্তের কাছে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৫


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:২০ এএম

কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কাছাকাছি একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্রু ও যাত্রীসহ মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলটি পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা সাতেনা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল একটি বিচক্রাফ্ট (Beechcraft) ১৯০০ মডেলের টুইন-প্রপেলার উড়োজাহাজ।

বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য না দিলেও সাতেনা জানায়, ফ্লাইটটি একটি ‘মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার’ হয়েছে। পরে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলা সীমান্তসংলগ্ন একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করে।

বিমান সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনএসই ৮৮৪৯ নম্বর ফ্লাইটটি বুধবার কলম্বিয়ার কুকুতা শহর থেকে উড্ডয়ন করে। উড়োজাহাজটিতে ১৩ জন যাত্রী ও দুজন ক্রু ছিলেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কাছের ওকানিয়া শহরে অবতরণের কথা ছিল বিমানটির।

তবে অবতরণের নির্ধারিত সময়ের ১১ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কলম্বিয়ার একজন আইনপ্রণেতা ডায়োজেনেস কুইন্তেরো আমায়া এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদো। তাঁদের মৃত্যুর খবরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য জানাতে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়। কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কুকুতা অঞ্চলটি মূলত পাহাড়ি এবং দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রায়ই বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া এই অঞ্চলের কিছু অংশ কলম্বিয়ার বৃহত্তম গেরিলা গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণেও উদ্ধার কার্যক্রমে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারিগরি ত্রুটি, আবহাওয়া পরিস্থিতি নাকি অন্য কোনো কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা তদন্ত শেষে জানানো হবে।

সূত্র: বিবিসি


এ সম্পর্কিত আরো খবর