ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিআর কঙ্গোর রুবায়া খনিতে ধস, নিহত দুই শতাধিক


  • আপলোড সময় : শনিবার ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১২:০১ পিএম

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি খনিতে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বুধবার রুবায়া কলটান খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে খননকারী শ্রমিক ছাড়াও নারী ও শিশু রয়েছে।

রুবায়া খনিটি বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উৎস হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই বিশ্বব্যাপী কলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ হয়। এই কলটান থেকে উৎপাদিত হয় তাপ-প্রতিরোধী ধাতু টেন্টালাম, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, বিমানযন্ত্রের অংশ ও গ্যাস টার্বাইনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

২০২৪ সাল থেকে খনিটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী মার্চ টোয়েন্টিথ্রি মুভমেন্ট বা এম২৩ নেতৃত্বাধীন জোটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদ্রোহীদের নিয়োগ দেওয়া প্রাদেশিক গভর্নর শুক্রবার খনি ধসের খবর নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এম২৩ নিযুক্ত গভর্নর লুমুম্বা কামবেরে মুইসা জানান, “ধসের ঘটনায় খননকারী, নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। কিছু লোককে সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে তাঁদের অনেকেই গুরুতর আহত।” তাঁর ভাষ্যমতে, প্রায় ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুবায়া খনিতে খুবই অপ্রতুল সরঞ্জাম ব্যবহার করে খননকাজ চালানো হয়। প্রতিদিন কয়েক ডলারের বিনিময়ে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাটির গভীরে কাজ করেন। বর্ষা মৌসুম চলায় মাটি নরম হয়ে পড়েছিল, যা ধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

গভর্নরের এক উপদেষ্টা জানান, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের মতে, এম২৩ নেতৃত্বাধীন এএফসি জোট রুবায়া অঞ্চলের খনিজ সম্পদ লুট করে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। এ কাজে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। তবে কিগালি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ডিআর কঙ্গোর সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করে, তারা কঙ্গো অঞ্চলের তুতসি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। গত বছর তারা দেশের পূর্বাঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি খনিজসমৃদ্ধ এলাকা দখলে নিতে সক্ষম হয়।

ফাইল ছবিতে দেখা গেছে, এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রুবায়া খনিতে শ্রমিকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খননকাজ চালাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, খনিজ সম্পদের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান এই সংঘাত কেবল মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পেও প্রভাব ফেলতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর