ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ২০০ জন নিহত


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:২৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা এবং উত্তরাঞ্চলীয় কাতসিনা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বন্দুকধারীদের পৃথক হামলায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। স্থানীয় আইনপ্রণেতা, বাসিন্দা এবং পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা রাজ্যের ওরো এবং নুকু গ্রামে হামলায় ১৭০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদু বাবা আহমেদ জানান, বন্দুকধারীরা বাসিন্দাদের ঘেরাও করে তাদের হাত পেছনে বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হামলাকারীরা গ্রামবাসীর বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং গবাদি পশু লুট করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা মূলত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্য, যারা দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। তারা গ্রামবাসীর কাছে ‘শরিয়া আইন’ মেনে চলার এবং নাইজেরীয় সরকারের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করার প্রস্তাব রেখেছিল। বাসিন্দারা তা প্রত্যাখ্যান করলে হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করেছে।

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় কাতসিনা রাজ্যেও বন্দুকধারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালিয়ে অন্তত ২১ জনকে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা শান্তি চুক্তি ভেঙে পড়েছে। নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা সাধারণত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে চাঁদা ও খাবার দিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তবে সাম্প্রতিক এই হত্যাযজ্ঞ সেই ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর দেশটির সরকারকে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সমালোচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে গত ২৫ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনী নাইজেরিয়ায় বিমান হামলাও চালিয়েছিল।

বর্তমানে নাইজেরীয় সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বলে দাবি করছে। তবে সাম্প্রতিক এই গণহত্যা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকে আবারও সামনে এনেছে।

নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, বন্দুকধারী গোষ্ঠীগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে হামলা চালাচ্ছে এবং প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি অপর্যাপ্ত। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে এবং বহু পরিবার ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকরা নাইজেরিয়ার সরকারের কাছে গ্রাহক ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উগ্রতা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবহেলা এই ধরনের হামলার মূল কারণ।

নাইজেরিয়ার এই হামলায় নিহতের সংখ্যা এবং গ্রামাঞ্চলের ত্রাসের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে। নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে এবং স্থানীয় জনগণের জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আকাশজমিন / আরআর



এ সম্পর্কিত আরো খবর