ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানকে সামরিক হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:১৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি তেহরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ট্রাম্প চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি না হলে কার্যক্রম নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো নাহলে আমাদের কঠিন কিছু করতে হবে।” এই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে জোরালো করেছে। ইরানের জলসীমার কাছে ইতিমধ্যে রণতরী পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আরও একটি যুদ্ধবাহী রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কা বেড়েই চলেছে। তবে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তিনি সর্তক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রস্তুত আছে এবং যেকোনো সময় অভিযানে যেতে পারে। তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতি তুলনা করেছেন। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েন এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখতে এবং পারমাণবিক প্রোগ্রাম নিয়ে একটি সুবিধাজনক চুক্তি করতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে, তবে তারা জানিয়েছেন যে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা কম নয়, কারণ উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে প্রস্তুত।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং সামরিক শক্তি মোতায়েনের ফলে মার্কিন কূটনীতিকরা ইরানের ওপর চাপ দিতে চাচ্ছেন। এই পদক্ষেপ ইরানকে চুক্তিতে বসতে বাধ্য করতে এবং পারমাণবিক প্রোগ্রাম, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি উত্তেজনা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি করছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে রণতরীর মোতায়েন এবং সামরিক প্রস্তুতির ফলে সংযুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও সতর্ক হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে আলোচনার শুরু হয়েছে, সেটি চলমান আছে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ইরানকে চাপে রাখতে এবং সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি একেবারে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চলবে। পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল হলেও, দুই দেশের মধ্যে যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে, তা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর