ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস: পহেলা ফাল্গুনের আনন্দময় মিলন


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:০৫ পিএম

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বসন্তের আগমন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একসঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে। পঞ্জিকার হিসেবে আজ ফাল্গুনের প্রথম দিন। প্রাকৃতিক পরিবর্তন, রঙিন ফুল আর সতেজ বাতাসে প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজেছে। এ দিনের মিলনপূর্ন আবহ সাধারণ বাঙালির হৃদয়েও উৎসবের দোলা সৃষ্টি করেছে। বসন্ত ও ভালোবাসার এই যুগলমেলন বাঙালির জীবনকে আনন্দময় ও রঙিন করে তোলে।

বাংলা একাডেমির সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, এখন থেকে পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে উদযাপিত হয়। ফলে উৎসবপ্রিয় বাঙালির কাছে দিনটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। রঙিন পোশাক, বাসন্তী শাড়ি এবং হাতে ফুলের মালা নিয়ে রাজপথে বের হয় তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ। বাঙালির জীবনে এই দিন শুধু প্রকৃতির ঋতুবদলের উদযাপন নয়, বরং সামাজিক মিলন, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার প্রকাশের দিনও বটে।

ফুলের বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শাহবাগের ফুল বাজারে প্রতিটি দোকানী ক্রেতাদের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন। পরিবারসহ ফুল কিনতে আসা মো. জুম্মান (২৫) বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশ বেশ ভালো লাগছে, কিন্তু ফুলের দামটা এবার একটু বেশি।” ফুল ব্যবসায়ী আজিম হোসেন জানান, “দাম আমরা বাড়াইনি, আমরা যাদের থেকে কিনি তারা বাড়িয়েছে। কিছু দিন আগেও ফুলপ্রতি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হলেও আজ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।” এই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অংশগ্রহণই বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের প্রাণকেন্দ্রকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই, শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর উপস্থিতি কমে আসে না। চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আজাহারুল ইসলাম শেখ বলেন, “আমাদের অনুষদ থেকে এবার আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই, কোনোবারই থাকে না। কিন্তু ঐতিহ্য হলো ছেলেমেয়েরা ঘোরাঘুরি করতে থাকে, মেয়েরা সেজে আসে। এটা চারুকলা থেকে শুরু হয়েছিল, এখন সারা ক্যাম্পাসেই হয়।” শিক্ষার্থীদের এই প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ বসন্তের আনন্দকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

নতুন পঞ্জিকার আওতায় বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হয়। লিপ-ইয়ারে ফাল্গুনের দিন সংখ্যা ৩০ হয়। মূল উদ্দেশ্য ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক দিনগুলোর সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি তারিখের সামঞ্জস্য রাখা। এই নতুন পঞ্জিকা বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে উৎসব উদযাপনের কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করেছে।

ঋতুরাজের আগমনী বাতাস, রঙিন প্রকৃতি এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের উষ্ণ আবহের সংমিশ্রণে আজ বাঙালির জীবন হয়ে উঠছে উৎসবমুখর। প্রতিটি বাড়ি, রাস্তা, এবং পাবলিক স্থান যেন এক জীবন্ত রঙের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই এই আনন্দের অংশীদার হয়েছেন। রঙিন শাড়ি, ফুলের মালা, বর্ণিল সাজ—এগুলো শুধু বাহ্যিক উদযাপন নয়, বরং মনের আনন্দের প্রতীক।

ফুলের বাজার, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস—সকল স্থানে বসন্তের ছোঁয়া এবং ভালোবাসার সুরম্য প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ফোটোগ্রাফাররা সেলফি এবং স্মৃতি ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দিনটি শেয়ার করা হয়, যাতে বসন্ত ও ভালোবাসার উচ্ছ্বাস সকলের কাছে পৌঁছে। বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসের মিলনে প্রকৃতি ও মানুষের আবেগ একাকার হয়ে ওঠে।

বাজারে ফুল ক্রয়ের ধারা শুধু বাঙালির আনন্দের প্রকাশ নয়, বরং ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতিকেও গতিশীল করে। ফুল ব্যবসায়ীরা সরাসরি উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ বসন্ত উৎসবকে শুধু সাংস্কৃতিক নয়, অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীও করে তোলে। বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র শাহবাগের ফুল বাজার এই সময় অত্যন্ত ভিড় থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বসন্ত উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে। ছেলেমেয়ে সেজে বের হয়, ছবি তোলে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে। ক্যাম্পাসজুড়ে রঙিন আবহ এবং প্রাণবন্ত আয়োজন ছাত্র সমাজকে উৎসবমুখর করে তোলে। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে এবং প্রজন্মান্তরে তা প্রেরণা হিসেবে থাকে।

নতুন পঞ্জিকার প্রয়োগের ফলে পহেলা ফাল্গুনের সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে উদযাপিত হওয়ায় দিনটির তাৎপর্য আরও বেড়েছে। বৈশাখ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত মাসগুলোর দিনের সংখ্যা নির্ধারণ ও লিপ-ইয়ারে ফাল্গুনের ৩০ দিন গণনা উৎসবের সঠিক সময়সূচি নির্ধারণে সাহায্য করে। এই সংস্কার মূলত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য প্রবর্তিত।

ঋতুরাজের আগমন ও ভালোবাসার উষ্ণ আবহ সমাজে আনন্দ এবং মিলনের বার্তা বহন করে। পরিবার, বন্ধু, শিক্ষার্থী, ও সাধারণ মানুষ সকলে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে। উৎসবের আনন্দ শুধু চোখে নয়, মনেও সঞ্চারিত হয়। রঙিন পোশাক, ফুল, সেলফি, ছবি এবং সামাজিক অনুষ্ঠান—সবই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের মিলনে তরুণ-তরুণী এবং বাঙালির সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের অনুষদের উৎসব, বাজারে ফুল ক্রয়, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—সবই দিনের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। বাঙালির জীবনে বসন্তের আনন্দ ও ভালোবাসার উচ্ছ্বাস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি হিসেবে প্রতিফলিত হয়।

শহরের রাস্তাঘাট, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বাড়িঘর—সবই রঙিন সাজে সজ্জিত হয়। মানুষ হাসি, আনন্দ, ও ফুলের সৌরভে মগ্ন থাকে। এই মিলনপ্রিয় পরিবেশ প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বসন্ত ও ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। উৎসবের আনন্দ শুধু সামাজিক নয়, এটি ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার প্রকাশও বটে।

ফুলের বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব জায়গায় রঙিন সাজ আর আনন্দদায়ক পরিবেশ বিরাজ করে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবার, বন্ধু, সমাজের সকল স্তরের মানুষ এই আনন্দের অংশীদার হয়। উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভালোবাসার বার্তা সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের মিলনে বাঙালির জীবন হয়ে উঠে আরও উজ্জ্বল ও আনন্দময়। প্রতিটি স্থানে আনন্দ, মিলন এবং সামাজিক সম্পর্কের সৌন্দর্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে আনন্দ ও উৎসব ভাগাভাগি করে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর