গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক ও পর্যটনসমৃদ্ধ প্লাকা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে আকস্মিক ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী ভবন ধসের মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। গত শুক্রবার সকালে সংঘটিত এই বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ও এর জেরে ভবন ধসের পর থেকেই পুরো এথেন্সজুড়ে তীব্র শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘প্রথো থেমা’-র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বিকট শব্দে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি ভিত্তিতে দেশটির ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে কোনো প্রাণ বা নিখোঁজ ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে দিনরাত অক্লান্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি আধুনিক অনুসন্ধানকারী কুকুর, বিশেষ জিওফোন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তল্লাশি শেষে শনিবার উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে সর্বশেষ দুটি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এর মধ্য দিয়েই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে পৌঁছায়।
প্রাথমিক তদন্তে এই বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে লাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের লিকেজের বিষয়টিকে জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্য রহস্য নিখুঁতভাবে উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণের তীব্রতায় ধসে পড়া ভবনের আশপাশের বেশ কিছু স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকার চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর হাতে জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকার এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাসের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।