ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রী ধ/র্ষণে/র গুজব

যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকে চড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উত্তাল এলপিইউ ক্যাম্পাস


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:১৬ পিএম

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধর জেলার ফাগওয়ারায় অবস্থিত স্বনামধন্য লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির (এলপিইউ) বিশাল ক্যাম্পাস চত্বরে এক অভাবনীয় ও অত্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতদের হাতে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন একটি চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন ও তথ্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর পরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফুসে ওঠেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রদর্শনীর জন্য সংরক্ষিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি ঐতিহাসিক মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমান ও একটি সামরিক ট্যাংকের ওপর চড়ে বসেন এবং তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই অভিনব ও উত্তাল বিক্ষোভের বেশ কিছু ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের প্রধান ফটকের সামনে প্রথমে গুঞ্জন ও পরে উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করে। আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোরালো অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হলের ভেতরে অবস্থানরত এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে ক্যাম্পাসের কোনো নির্মাণশ্রমিক জড়িত থাকতে পারেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে হলের তত্ত্বাবধায়ককে অবহিত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকেই রোববার সকালের দিকে হাজারো শিক্ষার্থী ক্লাস ও হল ছেড়ে ক্যাম্পাস চত্বরে জড়ো হয়ে এই বড় ধরনের আন্দোলনে নেমে পড়েন।


আন্দোলনের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করার সাথে সাথে ক্যাম্পাসের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ভবনের কাঁচের জানালা, দরজার গ্লাস, ফুলের টব এবং ক্যাম্পাসের ভেতরকার বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর চালাচ্ছেন। এমনকি ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরা গণমাধ্যমকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন গুজবের ওপর ভর করেই শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের মনে এলপিইউ প্রশাসনের প্রতি কিছু পুরোনো ক্ষোভ জমে ছিল, যা পুলিশ ও প্রশাসন মিলে শুনে সমাধানের চেষ্টা করছে।


এদিকে, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসার পর জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) নবীন সিংলা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা বা এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তের প্রকৃত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে জি-থ্রি হোস্টেলের এক ছাত্রী তিন দিন আগে এই পাশবিকতার শিকার হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এই পুরো ঘটনার প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার (এসপি) মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল বা এসআইটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।


অন্যদিকে, ছাত্রী ধর্ষণের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এলপিইউয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তার বিন্দুমাত্র কোনো সত্যতা নেই। কিছু সমাজবিরোধী ও কুচক্রী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণকে এসব গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক বিবৃতির ওপর ভরসা রাখার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


এ সম্পর্কিত আরো খবর