ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার জন্য ছোট্ট তুবার আকুতি: ভাইরাল সেই ঘটনার পেছনের গল্প পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরল ইরানি শিশুরা দক্ষিণ আফ্রিকার একুরহুলেনি এলাকায় দুই মাসে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার ইউরোপে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইইউ সতর্কতা দুই দফা মার্কিন হামলা থেকে যেভাবে বাঁচলেন মোজতাবা হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত মিয়ানমার সেনার বিমান হামলায় রক্তাক্ত রাখাইন, নিহত ৩৩ ও আহত ৩৬ আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে তল্লাশি, ২০টির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার

সদ্য সাবেক ভিসিকে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল চুয়েট ক্যাম্পাস


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৫০ এএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এ মাত্র ছাপ্পান্ন দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের ঘটনায় সৃষ্ট তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের জেরে ক্যাম্পাসজুড়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই লাগাতার আন্দোলনের ফলে ইতিমধ্যে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং ক্লাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

উপাচার্য পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ব্যাখ্যা বা কারণ না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ তৈরিতে তাঁর বিশেষ ভূমিকার কারণে ব্যাপক আস্থা তৈরি হয়েছিল। হুট করে কোনো পূর্বভাষণ বা সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ায় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে।

 

গত ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ৫৬ দিন পর গত ২১ সেপ্টেম্বর কোনো কারণ উল্লেখ না করেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে মূল ফটক আটকে সর্বাত্মক শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। ছুটির দিনেও ক্যাম্পাসে অবস্থান ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

 

এদিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ নিয়েও তীব্র আপত্তি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে কুয়েটের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন ও সংঘর্ষের মুখে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি অব্যাহতির মুখে পড়েছিলেন। সেই পটভূমির একজন শিক্ষককে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে না পেরে অনলাইনে ও শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ফেরার কথা জানিয়েছেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মনে করেন, অল্প সময়ের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এভাবে উপাচার্য পরিবর্তন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। সরকার চাইলে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে অথবা অপসারণের যৌক্তিক কারণ প্রকাশ করতে পারে। অন্যদিকে, চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আবুল হাসানও স্বল্প সময়ে কাজের সুযোগ দিয়ে এভাবে উপাচার্যকে সরানোর বিষয়টিকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

 

পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক ক্ষতি নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর মাঝে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নতুন উপাচার্যকে কাজের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি থেকে পিছু হটতে নারাজ। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লাগাতার আন্দোলন ও অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে।

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর