মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নেপথ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চরম ব্যর্থতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের মতো একটি ভালো ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়েই মূলত এক গভীর রাজনৈতিক ফাঁদে পা দিয়েছেন ইশরাক।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইশরাক ভাই একদম নতুনভাবে রাজনীতিতে মাঠে নেমেছেন এবং তাঁর মনের মতলব ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভালো ছিল—তিনি চেয়েছেন দেশ থেকে মাদকের করাল গ্রাস চিরতরে বন্ধ হোক। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই আজ তিনি এক অনভিপ্রেত ফাঁদে পড়ে গেলেন।”
বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, মূল সমস্যা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জায়গায় রয়েছে। তাহলে কেন ইশরাক ভাইকে এর জন্য খেসারত দিতে হলো? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভুল করবেন আর অন্য আরেকজন সেই ভুলের পাপে ভোগান্তি পোহাবেন—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ, যার ফলে মাঝখান থেকে ইশরাক ভাই অকারণে ফেঁসে গেলেন।
শুধু পদত্যাগ বা রাজনৈতিক প্রসঙ্গেই নয়, এ সময় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সরকার সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করছেন না। গত তিন-চার মাসের বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা এখনো দেখতে পাওয়া যায়।
এ ধরনের অনভিপ্রেত ভুল-বোঝাবুঝি ও সামাজিক দূরত্ব চিরতরে দূর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে বসে আলোচনার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আজকে দয়া করে আমাকে “শাহবাগী হিন্দুদের নতুন ভার্সন” এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দেবেন না। মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই উদ্বেগের কথাগুলোই তারা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের অনুরোধ জানিয়েছেন।” পারস্পরিক ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে উভয় পক্ষকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনার ওপর জোর দেন তিনি।