ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,  ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দল চাইলে মেয়র নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি: ইশরাক


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:২০ পিএম

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তরুণ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। দল যদি তাকে যোগ্য মনে করে এবং পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করে, তবে ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।


সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের অত্যন্ত খোলামেলা জবাব দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আগামীতে মেয়রের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ পদে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। দলের হাইকমান্ড বা দলীয় প্রধান যে নির্দেশ দেবেন, সেটাই তিনি দলীয় শৃঙ্খলার খাতিরে সর্বান্তঃকরণে মেনে নেবেন।


নিজের অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, এর আগে ২০১৭ সালে তার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তৎকালীন সেই অভিজ্ঞতা তাকে নগরবাসীর মৌলিক সমস্যা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত করেছে। তাই দলের উচ্চপর্যায়ের প্রয়োজনে এবং রাজধানীবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে যদি তাকে আবারও মেয়র পদে লড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তিনি সাংগঠনিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


তবে কেবল নিজে প্রার্থী হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও ঐক্যের কথা উল্লেখ করে অত্যন্ত উদার ও পরিপক্ব রাজনৈতিক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন এই তরুণ নেতা। ইশরাক হোসেন অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “যদি দলের পক্ষ থেকে অন্য কাউকেও প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়, সে ক্ষেত্রে দলের স্বার্থে তাকে বিজয়ী করার জন্যও আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।” অর্থাৎ ব্যক্তিগত পদের মোহ নয়, বরং দলীয় ঐক্য এবং দলের শৃঙ্খলাই যে তার কাছে সর্বাগ্রে, তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন।


সাম্প্রতিক সময়ে নানা রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই, মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ এবং নানামুখী সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তিনি যে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন, সে কথা অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন। ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি কোনো কিছুতেই বিচলিত হব না। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজপথে থেকে তাদের কল্যাণে আজীবন কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।” তার এই সাহসী, আপসহীন ও সুদূরপ্রসারী বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর