অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অবশেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করলেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক জমকালো ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আলোচিত অস্ত্রকাণ্ড ও এর পেছনের সার্বিক ঘটনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। এ সময় নিজের কাজের সাফাই গেয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে বা এই অভিযানের মাধ্যমে আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি, সেটার জন্য আগেই আমি দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি।”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইশরাক হোসেন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা স্থানীয় থানাকে অবহিত করেই গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বৈধ লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি সবসময় তার কোমরেই থাকে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেদিন পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সুরক্ষার খাতিরে তিনি কিছুক্ষণের জন্য অস্ত্রটি হাতে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় সেটি আর দৃশ্যমান হয়নি। তার দাবি, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর মাধ্যমেই মূলত তিনি নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন যে ওই মাদকাসক্তদের হাতে কোনো অবৈধ অস্ত্র ছিল না। তবে এই ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সংবাদ আড়ালে চলে যাওয়ায় তিনি কিছুটা অনুতপ্ত হন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে এই তরুণ সংসদ সদস্য জানান, ঘটনার পর তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে দেশের মাদকের ভয়াবহতা ও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার ব্যক্তিগত এই কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সরকারের সামগ্রিক অর্জন ও সুনাম কোনোভাবেই ম্লান বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি চান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই প্রস্তাব ও পদত্যাগের সিদ্ধান্তে সদয় সম্মত হয়ে তাকে নিজের এলাকায় ফিরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে তার এই আপসহীন ও কঠোর লড়াই আগামীতেও যেকোনো মূলyে অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইশরাক হোসেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া ঘুণ্টিঘরে অস্ত্র উঁচিয়ে আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়। রোববার প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলে শুরুতে তা অস্বীকার করা হলেও শেষ পর্যন্ত আজ সোমবার সকালে নিজেই ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানে সিক্ত হয়ে গাড়ি বহর নিয়ে সচিবালয় ও জিরো পয়েন্ট হয়ে নিজের এলাকা গোপীবাগের উদ্দেশ্যে রওনা হন ইশরাক হোসেন।