ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,  ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সালাহউদ্দিনের ব্যর্থতার দায় ইশরাকদের ওপর পড়বে: হাসনাত


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:৩৫ পিএম

মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনদের ওপর চাপানো হতে পারে।

 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে আলোচনার মধ্যে তিনি সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়া জরুরি। তাঁর মতে, এ ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন সরাসরি মাঠে নামতে হবে, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। এ পরিস্থিতির দায় শুধু ইশরাক হোসেনের কি না, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও দায় রয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

এনসিপির এই নেতা আরও লেখেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও সেই ব্যর্থতার দায় বর্তায়। তাঁর বক্তব্য, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াকে যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

 

স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে শৌচাগার পরিদর্শনের বিষয়টিও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গিয়ে এমন বিষয় পরিদর্শন করতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

 

তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কিংবা মাদক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হলে কিংবা প্রতিমন্ত্রীকে নিজে রাস্তায় নেমে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

 

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও প্রশ্ন তোলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এভাবে চলতে থাকলে এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতির প্রতিবাদে জনগণ রাস্তায় নেমে এলে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে। তখন কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আনেন তিনি।

 

তাঁর বক্তব্য, কোনো ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার স্থায়ী সমাধান হয় না। রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

 

স্ট্যাটাসের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে বলেন, ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার বলি হতে হবে ইশরাক হোসেনদের। তাঁর মতে, ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সমস্যার মূল কারণ আড়াল করা হলে সংকটের প্রকৃত সমাধান হবে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর