মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে কুশিয়ারা ও খোয়াই নদীর তীর এবং বাঁধের অবস্থা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। পরিদর্শনকালে নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের জরুরি মেরামত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণকাজের মান এবং নদীভাঙন ঠেকাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে যথাযথ মান বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। নদীতীর রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরে সকাল ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি।
এ সময় বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ শেষ করে বাঁধকে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যা ও নদীর পানির চাপের কারণে যাতে একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। খোয়াই নদীর বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার নির্দেশনা দেন তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা মোতাবেক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসেছি।’ নদী ও বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু জরুরি মেরামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নদী ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের জরুরি মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় হুইপ, আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।