নড়াইলে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’। সংগঠনটির উদ্যোগে তিনটি ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলেই বিনামূল্যে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা ব্যবহৃত তিনটি প্লাস্টিকের বোতল জমা দিয়ে বিনিময়ে একটি করে গাছের চারা সংগ্রহ করেন।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করাই ছিল আয়োজকদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশিক এলাহী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রওশন আলী, নড়াইল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফসিয়ার রহমান এবং নড়াইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল জলিল।
আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন বর্জ্য রাস্তাঘাট, ড্রেন ও অন্যান্য স্থানে ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতাসহ নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে ‘বোতল দিন, চারা নিন—প্লাস্টিক কমান, পরিবেশ বাঁচান’—এমন বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগানোর মাধ্যমে নড়াইলকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে গড়ে তোলা সম্ভব।
কর্মসূচিতে সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মায়েশা আলম মুন, পাবলিসিটি সেক্রেটারি মাছুরা খানম, হেলথ সেক্রেটারি লিবিয়া আক্তার, হিউম্যান সেক্রেটারি শাইলা আক্তার শ্রাবণী ও সহ-সম্পাদক রাফিয়া ফেরদৌস তাসনিমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।