যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চাপাতলা গ্রামে স্বামীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৪ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন লিপিকা তরফদার নামে এক বিধবা নারী। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় লিপিকা তরফদার ছয়জনের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি উপজেলার চাপাতলা গ্রামের মৃত স্বরজিৎ তরফদারের স্ত্রী। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—হাশেম ডাক্তার, সেলিম, জিল্লুর রহমান, অমিত, সিরাজুল ইসলাম ও বরুন তরফদার।
লিখিত অভিযোগে লিপিকা তরফদার দাবি করেন, বন্দবিলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাশেম ডাক্তারের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে এসব ঘটনা ঘটছে। তার সঙ্গে গ্রামের কয়েকজন প্রতিবেশীর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
লিপিকার অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে অমিত তার স্বামীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৪ শতক জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি ছেড়ে দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কয়েকজনের প্ররোচনায় তাকে স্বামীর বসতভিটা থেকেও জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। এরপর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। একজন সংখ্যালঘু বিধবা নারী হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিপিকার দাবি, স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমিটি বিক্রি করে প্রয়োজন মেটাতে চান তিনি। কিন্তু অভিযুক্তদের বাধার কারণে সেটিও করতে পারছেন না। জমির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিনের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ করা হয়। এ সময় জমির সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন লিপিকা। তিনি জানান, ওই সময় হাজী মোহাম্মদ মহসিন শেখ, জুলফিকার আলী ও গোলাম রসুলসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
তবে সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপনের পরও অভিযুক্তরা বিভিন্ন টালবাহানা করে জমিটি বুঝিয়ে না দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন লিপিকা। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বাঘারপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিপিকা তরফদার তার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধেরও সুষ্ঠু সমাধান চান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বন্দবিলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাশেম ডাক্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি কোনো জমি দখলের বিষয়ে ইন্ধন দেননি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও ভিত্তিহীন।
বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ জালাল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।