ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক সংকটে দুমকিতে আমন রোপণে ধীরগতি, বেড়েছে খরচ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৫:৩১ পিএম

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকিতে কৃষিশ্রমিক সংকটে রোপা আমনের চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে আমন রোপণে বিলম্বের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে কৃষকদের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমি চারা রোপণের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় এসব জমিতে সময়মতো চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকেরা। ফলে আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে একজন কৃষিশ্রমিককে ৬০০ টাকা মজুরি দিয়ে পাওয়া গেলেও বর্তমানে সেই মজুরি বেড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় অনেক কৃষক আগাম চুক্তিতে মৌসুমি শ্রমিক এনে জমিতে চারা রোপণ করছেন।

কৃষকেরা বলছেন, শুধু শ্রমিকের মজুরিই নয়, জমি চাষের খরচ ও ডিজেলের দামও বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন কৃষি উপকরণের বাড়তি ব্যয়। তেলের সংকটের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি প্রস্তুত করতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমন চাষে এবার আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়েছে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মজিদ হাওলাদার বলেন, একই জমিতে বোরো চাষের পর এখন আমন ধান রোপণ করছেন। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো চারা রোপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও প্রয়োজনীয়সংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ জিয়া উল হাসান বলেন, ‘ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি দুটোই বেড়েছে। এত খরচ করে চাষাবাদ করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’

তবে আবহাওয়া বর্তমানে অনুকূলে থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে। শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উঁচু জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ভাদ্র মাসের মধ্যে রোপণ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকিতে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আবাদি জমির পরিমাণ ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে বর্তমানে আমনের চারার অবস্থা ভালো রয়েছে। কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাত চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে সময়মতো চারা রোপণ শেষ করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর