ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ বছর পর আমতলীতে ফিরল সিনিয়র সিভিল জজ আদালত


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:২৫ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আমতলী-তালতলী উপজেলার মানুষের জন্য সিনিয়র সিভিল জজ (দেওয়ানি) আদালত আমতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে দুই উপজেলার বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার আশা তৈরি হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে আদালতটি বরগুনা জেলা সদর থেকে আমতলী উপজেলায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোমবার রাতে আদেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমতলী ও তালতলী উপজেলার সাধারণ মানুষ এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়দের আশা, আদালতটি আমতলীতে কার্যক্রম শুরু করলে গত ৩৬ বছর ধরে চলে আসা দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে এবং বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আমতলী ও তালতলী নিয়ে আমতলী উপজেলা গঠিত হয়। উপজেলা ঘোষণার পর আমতলীতে মুনসেফ (দেওয়ানি) আদালত স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন আদালতটির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোনো কারণ ছাড়াই আমতলীর আদালত প্রত্যাহার করে বরগুনা জেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

এর ফলে আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিপুলসংখ্যক বিচারপ্রার্থী মানুষ স্থানীয়ভাবে দেওয়ানি আদালতের সেবা থেকে বঞ্চিত হন। মুনসেফ আদালত বরগুনায় সংযুক্ত করার এক বছরের মাথায়, ১৯৯২ সালে পায়রা নদী ও রাখাইন অধ্যুষিত এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম পুনরায় আমতলীতে শুরু হয়। তবে গত ৩৬ বছরেও সিনিয়র সিভিল জজ (দেওয়ানি) আদালতের কার্যক্রম আমতলীতে চালু হয়নি।

এ কারণে মামলা-মোকদ্দমার কাজে আমতলী ও তালতলীর মানুষকে বরগুনা জেলা সদরে যেতে হতো। বিশেষ করে পায়রা নদীর কারণে এ যাত্রা অনেকের জন্য ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ভোগপূর্ণ। বর্ষা, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আদালতে হাজির হতে হওয়ায় সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

তালতলী মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, বরগুনা জেলা সদরে দেওয়ানি আদালত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমতলী ও তালতলী উপজেলার জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত আমতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক বিচারপ্রার্থীর দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের মোঃ ইসহাক হাওলাদার বলেন, গত ১০ বছর ধরে বরগুনা সহকারী জজ দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা চলছে। মামলার কাজে ঝড়-বন্যা উপেক্ষা করে পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে বরগুনা আদালতে যেতে হয়। এতে জীবনের ঝুঁকির পাশাপাশি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। দেওয়ানি আদালত পুনরায় আমতলীতে চালু হওয়ার খবরকে তিনি আমতলী-তালতলীর মানুষের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঢাকা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমতলী-তালতলীর মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। আদালতটি আমতলীতে চালু হলে বিচারপ্রার্থীদের আর পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে বরগুনায় যেতে হবে না। এতে কম খরচে বাড়ি থেকে আদালতে গিয়ে আবার বাড়ি ফিরতে পারবেন তারা।

আদালত স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আমতলী ও তালতলী উপজেলার সাধারণ মানুষ, বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আমতলীতে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর