ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার জন্য ছোট্ট তুবার আকুতি: ভাইরাল সেই ঘটনার পেছনের গল্প পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরল ইরানি শিশুরা দক্ষিণ আফ্রিকার একুরহুলেনি এলাকায় দুই মাসে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার ইউরোপে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইইউ সতর্কতা দুই দফা মার্কিন হামলা থেকে যেভাবে বাঁচলেন মোজতাবা হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত মিয়ানমার সেনার বিমান হামলায় রক্তাক্ত রাখাইন, নিহত ৩৩ ও আহত ৩৬ আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে তল্লাশি, ২০টির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হবে না: প্রতিমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:৪৯ পিএম

ফেনী অঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা ও নদীভাঙনের কবল থেকে সুরক্ষা দিতে সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পের কাজ আগামী ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ফেনীর পরশুরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষে নির্মাণাধীন সভাস্থল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে কোনো ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমে দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।


সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই অঞ্চলের মানুষকে চিরতরে বন্যামুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন দিয়েছেন। গত ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী-কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং নদী খননের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষ কৃষি ও মৎস্য চাষে শতবছর ধরে সুবিধা ভোগ করবে।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাফ জানিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনঘনিষ্ঠ এই সরকারের আমলে কোনো দুর্নীতি হবে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং মন্ত্রীসহ তারা নিজে নিয়মিতভাবে এসব প্রকল্প তদারকি করছেন। কেবল প্রশাসনিক নজরদারিই নয়, বরং স্থানীয় জনসাধারণকেও এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণকাজে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।


পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়েত আক্তার নূর, থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আবু তালেব, উপজেলা আহ্বায়ক আবদুল হালিম, সদস্য সচিব ইব্রাহিম থলিল মনি, পৌর আহ্বায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফেনীর উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর